BIBORTITO NARAIJEEBAN
KOLUTOLAR SENBARI O COOCHBEHARER RAJANTAHPUR
সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যকার অসাম্য কেবল একটি সামাজিক বাস্তবতা নয়, বরং তা এক গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গঠন—যার মূল শিকড় পিতৃতন্ত্রে প্রোথিত। উনিশ শতকের বাংলায় এই পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো অটুট ছিল, আর নারী-শিক্ষার অভাবকে তা দৃঢ়ভাবে বজায় রাখার একটি প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তথাকথিত ‘রেনেসাঁ’-র পুরোধা পুরুষেরা নারী-শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কিছুটা আলোচনা করলেও, তাতে সামাজিক বা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন কখনও জায়গা পায়নি। ফলে, নারীর 'উন্নয়ন' হয়েছিল পুরুষের নিয়ন্ত্রিত সংজ্ঞায়নে, যেখানে ‘নব-নারী’ ছিল মূলত পুরুষের চোখে কাঙ্ক্ষিত আদর্শ নারী—আত্মনির্ভর নয়, নিয়ন্ত্রিত। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান গ্রন্থটি এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। কলুটোলার সেন পরিবার ও কোচবিহারের রাজপরিবারের পটভূমিতে লেখক তুলে ধরেছেন পিতৃতন্ত্রের ভেতরেই নারীর বিবর্তিত জীবনের কাহিনি। ইংরেজ শাসনের প্রভাবে কোচবিহারের মতো কৌম-সমাজেও ‘প্রগতির’ হাওয়া বয়ে যায়, কিন্তু সেই প্রগতি কতখানি নারীর ছিল? প্রশ্ন থেকেই যায়। 'প্রগতি'র সংজ্ঞা, তা মেয়েদের জন্য কি আদৌ মুক্তির পথ খুলে দিয়েছিল, নাকি আরও সূক্ষ্ম শৃঙ্খলের জাল বুনেছিল—এই সমস্ত প্রশ্নের আলোচনাই স্থান পেয়েছে এ বইতে। এই গ্রন্থ, তাই, শুধু অতীত বিশ্লেষণ নয়, পিতৃতন্ত্রের নিরবচ্ছিন্নতা ও নারী-জীবনের বদলানোর সম্ভাবনা নিয়ে একটি গভীর অনুসন্ধান।
